• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনাম:
কুমিল্লা ৪ দেবিদ্বারের রাজনীতিতে চলছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিযোগিতার ফাঁদ: ২০১৮ সালের নির্বাচনের ৩২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর, প্রজ্ঞাপন জারি কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বারের ভোটযুদ্ধ: পুরোনো পারিবারিক রাজনৈতিক প্রভাব, নতুন সমীকরণ, নাকি পরিবর্তনের জনরায় বাস্তবায়ন হবে কারবালার শিক্ষা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের সংগ্রামের প্রেরণা: হযরাতুল আল্লাম এম. আমিরুল ইসলাম ভূমিকম্পের খবর কি মিথ্যা? সত্যের জন্য ত্যাগই প্রকৃত বিজয়’ মহররমে চেয়ারম্যান বাবুর বার্তা ‎ নিজস্ব অর্থায়নে খানাখন্দে ভরা রাস্তা মেরামত করে প্রশংসায় ভাসছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল বাশার ‎ অষ্টগ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তালিকায় অনিয়ম: স্বজনপ্রীতির অভিযোগ স্বীকার এমপি ফজলুর রহমান চান্দিনার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ: মাঠে যারা, ভবিষ্যৎ তাদের ‎তীব্র গরমের অবসান, অষ্টগ্রামে নেমেছে রহমতের বৃষ্টি

দিন বাড়াতে কৃত্রিম আলো, অমৌসুমে তিন গুণ ফলন শার্শায় ‘লাইট ইনডোর্স’ পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষে নতুন দিগন্ত

রিপোর্টারের নাম : / ২৫৩ জন দেখেছে
আপডেট : রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬

হুমায়ন কবির মিরাজ, শার্শা: দিনের আলো কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে অমৌসুমে ড্রাগন উৎপাদনে বিপ্লব ঘটিয়েছেন যশোরের শার্শা উপজেলার এক তরুণ কৃষক। আধুনিক ‘লাইট ইনডোর্স’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিনি ড্রাগন চাষে ফলন বাড়িয়েছেন প্রায় তিন গুণ, যা স্থানীয় কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বসতপুর গ্রামের কৃষক মনিরুজ্জামান মনির এই নতুন প্রযুক্তির সফল প্রয়োগকারী হিসেবে ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছেন। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে ৭ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ শুরু করলেও বর্তমানে তার খামারের পরিধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ বিঘায়। এর মধ্যে শীতকালীন অমৌসুমে উৎপাদন নিশ্চিত করতে ২০ বিঘা জমিতে চালু করা হয়েছে লাইটিং বা কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা।

শীতকালে রাত বড় ও দিন ছোট হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে ড্রাগন গাছে ফুল ও ফলন কমে যায়। এই সমস্যার সমাধানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এলইডি লাইট ব্যবহার করে রাতে দিনের মতো আলোক পরিবেশ তৈরি করছেন চাষি মনির। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ড্রাগন বাগানজুড়ে আলো জ্বলে ওঠে, যা একদিকে যেমন গাছের ফুল ধরতে সহায়ক হচ্ছে, তেমনি তৈরি করছে চোখধাঁধানো এক নান্দনিক দৃশ্য।

বাগানে প্রতিরাতে দুই দফায় লাইটিং ব্যবস্থা চালু রাখা হয় প্রথম দফা সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফা রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত। এতে গাছ প্রয়োজনীয় আলোর ঘাটতি পূরণ করতে পারছে এবং অমৌসুমেও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ফুল ও ফল ধরছে।

আলোকসজ্জায় সজ্জিত এই ড্রাগন বাগান এখন শুধু কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রই নয়, দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হয়েছে। সারিবদ্ধ ড্রাগন গাছে আলোর ঝলকানি বসতপুর এলাকার প্রান্তরে এক অনন্য দৃশ্যের জন্ম দিচ্ছে। অনেক দর্শনার্থীর মতে, এই দৃশ্য ইউরোপের উন্নত শহর কিংবা আমেরিকার আধুনিক কৃষি খামারের কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ এই বাগান দেখতে ভিড় করছেন।

উপজেলা কৃষি কৃষি অফিসার দীপক কুমার সাহা বলেন, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ৮৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগনের আবাদ হচ্ছে। অমৌসুমে উৎপাদিত ড্রাগনের বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

তবে এই আধুনিক পদ্ধতির বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ব্যয়। চাষি মনিরুজ্জামানের ভাষ্যমতে, ২০ বিঘা জমিতে লাইটিং সিস্টেম চালাতে প্রতি মাসে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে, যার বেশির ভাগই বিদ্যুৎ বিল।

তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করে আরো বলেন, বিদ্যুৎ খরচ যদি বাণিজ্যিক খ্যাত না হয়ে, কৃষি খাতের আওতায় বিশেষ সুবিধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হতো, তাহলে আরও অনেক কৃষক এই প্রযুক্তিতে আগ্রহী হতেন। কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, পরিকল্পিত সহায়তা ও নীতিগত সুবিধা দেওয়া গেলে ‘লাইট ইনডোর্স’ পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ শার্শাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও অমৌসুমে ফল উৎপাদনের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ