ফেসবুকে কিছুক্ষন ধরেই এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। কেউ দাবি করছেন, তারা স্পষ্টভাবে ভূমিকম্পের কম্পন অনুভব করেছেন। আবার অনেকেই বলছেন, তারা কিছুই টের পাননি। এমনকি কেউ কেউ পুরো ঘটনাকেই গুজব বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
কিন্তু সত্যি কথা হলো, ভূমিকম্পটি বাস্তবেই সংঘটিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা volcanodiscovery.com এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২২ জুন) রাত ৯টা ২৮ মিনিটে ঢাকার নিকটবর্তী এলাকায় ৪.০ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। সংস্থাটির তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ঢাকার প্রায় ১৫.৮ কিলোমিটার দূরে এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ১৬ কিলোমিটার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প অনুভূত হওয়া বা না হওয়া অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। কেউ বহুতল ভবনের উঁচু তলায় থাকলে কম্পন বেশি টের পেতে পারেন, আবার একই সময়ে কেউ যদি চলন্ত গাড়িতে থাকেন, ব্যস্ত কাজে মনোযোগী থাকেন বা এমন স্থানে অবস্থান করেন যেখানে কম্পন তুলনামূলক কম পৌঁছেছে, তাহলে তিনি তা অনুভব নাও করতে পারেন।
এছাড়া ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে দূরত্ব, ভবনের ধরন, মাটির গঠন এবং ব্যক্তির অবস্থানও কম্পন অনুভূত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে একটি এলাকার সবাই যে একই মাত্রায় ভূমিকম্প টের পাবেন, এমন কোনো নিয়ম নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় কোনো ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও ভূমিকম্পের মতো বিষয়গুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যবেক্ষণ সংস্থার যন্ত্রের মাধ্যমে রেকর্ড করা হয়। তাই কেউ অনুভব না করলেও সেটি ভূমিকম্প হয়নি এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সঠিক নয়।
সোমবার রাতের এই ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বসবাসকারী নাগরিকদের সবসময় সচেতন ও প্রস্তুত থাকা জরুরি।
সুতরাং, ভূমিকম্পের খবরটি গুজব নয়; এটি রেকর্ডকৃত একটি বাস্তব ভূমিকম্প। তবে এর মাত্রা ও অবস্থানগত কারণে কেউ কম্পন অনুভব করেছেন, আবার কেউ করেননি।