• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনাম:
🌙 পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা 🌙 দোহার পৌরসভার কার্যকলাপে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের ক্ষোভ ও অসন্তোষ শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম শেখাবে কারা? অষ্টগ্রামের অনুষ্ঠানে উঠলো বড় প্রশ্ন ‎ অষ্টগ্রামে টানা লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, দ্রুত সমাধানের দাবি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে বিনামূল্যে ভিজিএফ চাল বিতরণ ‎“রাগ করলা?” ভিডিও ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে হাস্যরসের ঝড় ‎ অষ্টগ্রামে শোকের ছায়া: যিনি মানুষের মৃত্যু সংবাদ প্রচার করতেন, আজ তারই মৃত্যু সংবাদ প্রচার হচ্ছে ‎ কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে পানিতে পড়ে দেড় বছরের এক শিশুর মৃত্যু ‎ অষ্টগ্রামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিক জাভেদের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন কংস নদে অবৈধ বালু উত্তোলন: ভাঙছে কৃষিজমি, পরিবেশ বিপর্যয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ

বেনাপোল কার্গো ইয়ার্ডে বিদ্যুৎ শকে অসংখ্য অতিথি পাখির মৃত্যু:ইঞ্জিনিয়ারিং অবহেলা ও ত্রুটিপূর্ণ নকশার অভিযোগ

রিপোর্টারের নাম : / ১৬৯ জন দেখেছে
আপডেট : সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬

হুমায়ন কবির মিরাজ, বেনাপোল: বেনাপোল কার্গো ইয়ার্ড টার্মিনালে হাই-মাস্ট লাইট পোস্টে বিদ্যুৎ শকে একসঙ্গে অসংখ্য অতিথি পাখির মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের গাফিলতি, ইঞ্জিনিয়ারিং ত্রুটি ও অমানবিক নকশার অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশবিদ ও স্থানীয়দের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের অবহেলার পরিণতি।

জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই ইয়ার্ড এলাকায় হাই-মাস্ট লাইট পোস্টের আশপাশে এক-দুটি করে পাখির মৃতদেহ দেখা যাচ্ছিল। তবে বিষয়টি গুরুত্ব না পাওয়ায় কেউ তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেয়নি। শনিবার সকালে ইয়ার্ড এলাকায় একটি হাই-মাস্ট লাইটের বিদ্যুৎ সংযোগ বক্সের তালা খুলে ভেতরে প্রায় ত্রিশটি মৃত পাখি পাওয়া যায়। পরে দেখা যায়, বন্দরের ভেতরে থাকা প্রায় প্রতিটি ল্যাম্পপোস্টেই একই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বিদ্যমান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মৃত পাখিগুলো সম্ভবত আবাবিল প্রজাতির অতিথি পাখি। রাতে তীব্র আলো ও শীত থেকে রক্ষা পেতে এসব পাখি হাই-মাস্ট লাইট পোস্টের ফাঁকা অংশে আশ্রয় নেয়। কিন্তু ল্যাম্পপোস্টে থাকা খোলা ও অপর্যাপ্তভাবে সুরক্ষিত বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে পাখিগুলো বিদ্যুৎ শকের শিকার হয়। একে একে সেখানেই মারা যায় তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি সুস্পষ্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যর্থতার ফল। নিয়ম অনুযায়ী হাই-মাস্ট লাইটে বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে সুরক্ষিত কাভার, পর্যাপ্ত ইনসুলেশন এবং বন্যপ্রাণীবান্ধব নকশা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে এসব মানদণ্ড মানা হয়নি বলেই এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম হয়েছে।

পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেনাপোল কার্গো ইয়ার্ড টার্মিনালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনায় বন্যপ্রাণী সুরক্ষার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের অবহেলার কারণে শুধু পাখির মৃত্যু নয়, ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টিকে গুরুত্বহীনভাবে দেখছেন বলেন বিষয়টি কয়েকদিন আগে শুনেছি। আগামীকাল ঢাকায় এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠাবো। তবে তার এই বক্তব্যে স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশ সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে দায়ী প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং দ্রুত হাই-মাস্ট লাইটের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বন্যপ্রাণীবান্ধব ও নিরাপদভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ