• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনাম:
চান্দিনার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ: মাঠে যারা, ভবিষ্যৎ তাদের ‎তীব্র গরমের অবসান, অষ্টগ্রামে নেমেছে রহমতের বৃষ্টি 🌙 পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা 🌙 দোহার পৌরসভার কার্যকলাপে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের ক্ষোভ ও অসন্তোষ শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম শেখাবে কারা? অষ্টগ্রামের অনুষ্ঠানে উঠলো বড় প্রশ্ন ‎ অষ্টগ্রামে টানা লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত, দ্রুত সমাধানের দাবি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে বিনামূল্যে ভিজিএফ চাল বিতরণ ‎“রাগ করলা?” ভিডিও ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে হাস্যরসের ঝড় ‎ অষ্টগ্রামে শোকের ছায়া: যিনি মানুষের মৃত্যু সংবাদ প্রচার করতেন, আজ তারই মৃত্যু সংবাদ প্রচার হচ্ছে ‎ কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে পানিতে পড়ে দেড় বছরের এক শিশুর মৃত্যু ‎

চান্দিনার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ: মাঠে যারা, ভবিষ্যৎ তাদের

রিপোর্টারের নাম : / ৮৫৫ জন দেখেছে
আপডেট : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

লেখক:

মো: আজমির হোসেন
ডীন ও চেয়ারম্যান
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
(রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট)

উপমহাদেশে এবং স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা অন্যতম আলোচিত একটি বিখ্যাত রাজনৈতিক জনপদ। স্বাধীনতা-পরবর্তী সকল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চান্দিনা আসন জাতীয় রাজনীতিতে সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সাবেক স্পিকার, মন্ত্রী, শিক্ষাবিদ, ডাক্তার, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের কারণে চান্দিনার রাজনীতি সবসময়ই সকল সরকারি ও বিরোধী দলের নিকট বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে ৫ আগস্ট এর আওয়ামী লীগ এর পতনের পর এখানকার রাজনৈতিক অবস্থান ও ভোটারদের চিন্তা-ভাবনাও আগের চেয়ে অনেক বেশি বদলেছে। আজকের ভোটার শুধু দলীয় পরিচয় নয়, মাঠের রাজনীতিতে তৃণমুলের সাথে সরাসরি কার উপস্থিতি বেশি, জনগণের পাশে কে সুদিনে ও দুর্দিেন ছিল, এলাকার জন্য কে অবিরাম কাজ করছে, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।
সাম্প্রতিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী ফলাফল সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।

বিএনপি থেকে বহিষ্কার হবার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী জনাব আতিকুল আলম শাওন কলস প্রতীক নিয়ে ৯০,৮১৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এলডিপির মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান করা সাবেক মন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পান ৪৭,৯২৫ ভোট। প্রায় ৪৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে তরুন রাজনৈতিক নেতার এই বিজয় প্রমাণ করে যে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ এবং মাঠভিত্তিক রাজনীতি এখনো সবচেয়ে বড় শক্তি, দলীয় পরিচয় মুখ্য বিষয় না।

চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে বর্তমানে কয়েকটি ধারা সমান্তরালভাবে কাজ করছে। একদিকে আতিকুল আলম শাওনের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী স্থানীয় বিএনপির রাজনৈতিক বলয় দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনীতি করে মাঠের লড়াইয়ের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে সাবেক বিএনপির মন্ত্রী এবং দীর্ঘদিন এলডিপির রাজনীতি করা হেভিওয়েট প্রার্থী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগদান করে জাতীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। তিনি এখনো বিএনপির পরিচিত মুখ হলেও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংগঠনকে আরও জনমুখী করার ক্ষেত্রে আতিকুল আলম শাওন এর নেতাকর্মীদের সামনে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ তার সামনে রয়েছে।

একই সময়ে ৫আগস্ট পরবর্তী সময়ে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপির তরুন নেতা জনাব আবুল কাশেম অভির নেতৃত্বে চান্দিনার মাঠপর্যায়ে ব্যাপক সক্রিয়তা ও রাজনৈতিক কার্যক্রম দেখাচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা তৈরিতে অভি ও তার দল এনসিপির সাম্প্রতিক বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের ভূমিকা লক্ষণীয়। যদিও সাংগঠনিকভাবে তারা এখনো বড় শক্তিতে পরিণত হয়নি, তবুও স্থানীয় রাজনীতিতে তাদের উপস্থিতি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে বিএনপির এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রভাব ফেলতে পারে।

আর, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর চান্দিনা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্নরকম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। একসময় এই আসনে বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাবেক স্পিকার অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ দীর্ঘদিন এলাকার রাজনীতিতে বারবার এমপি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার মৃত্যুর পর অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্তের উপনির্বাচনে এবং পরবর্তী সময়ে ১২তম জাতীয় সংসদ ইলেকশনে বিজয়ী হয়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার লক্ষনীয় ছিল। একইভাবে আওয়ামী লীগের উপজেলা সভাপতি আলী আশরাফ সাহেবের ছেলে জনাব মো. মুনতাকিম আশরাফ টিটু স্থানীয় নেতৃত্বে তৃণমুলে অনেক সক্রিয় ছিলেন। তবে জাতীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম আগের তুলনায় এখন বলতে গেলে অদৃশ্য হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিত্র দেখা যায়। দলটির সাংগঠনিক কাঠামো থাকলেও বর্তমানে চান্দিনার রাজনীতিতে তাদের দৃশ্যমান প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। তবে বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে জোট, সমঝোতা এবং স্থানীয় ভোটের হিসাব অনেক সময় বড় পরিবর্তন এনে দেয়। ফলে কোনো রাজনৈতিক শক্তিকেই পুরোপুরি অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই।

এখন চান্দিনায় আপামর সকলের দৃষ্টি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচন সাধারণত স্থানীয় নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকর ক্ষেত্র। জাতীয় রাজনীতির প্রভাব থাকলেও এখানে ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সামাজিক সম্পর্ক এবং জনগণের পাশে থাকার ইতিহাস বেশি গুরুত্ব পায়। চান্দিনার ভোটাররা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তারা এখন শুধু প্রতিশ্রুতি শুনতে চান না, বাস্তব কাজ দেখতে চান, মাঠের রাজনীতি দেখতে চান এবং তরুন নেতৃত্ব দেখতে চান। উন্নয়ন, জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগই হবে আগামী দিনের রাজনৈতিক সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

রাজনীতির শেষ কথা ক্ষমতা নয়, জনআস্থা। আর চান্দিনার বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে, মাঠে যারা থাকবে, মানুষের সুখ-দুঃখে যারা পাশে থাকবে, ভবিষ্যতের নেতৃত্বও শেষ পর্যন্ত তাদের হাতেই যাবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সেই বাস্তবতারই পরবর্তী অধ্যায় হতে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে আসন্নবর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচন, মাঠের রাজনীতি কিংবা জাতীয় রাজনীতিতে সাবেক চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য জনাব আতিকুল আলম শাওন এর পক্ষের নেতাকর্মীদের শক্তিশালী অবস্থান দৃশ্যমান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ