শহীদ ওসমান হাদির জানাজায় ঢাকার পথে শতশত মানুষের শোক ও সমর্থন, বিশ্বমানবতার আলোয় নতুন প্রিয় নেতা
ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তার গুলিতে আহত হওয়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ১৮ ডিসেম্বর রাত পৌনে দশটায়। বঙ্গবন্ধু-চেতনায় উদ্ভাসিত এই যুবনেতা দেশের জন্য লড়াইরত অবস্থায় এক সপ্তাহ ধরে জীবন-মৃত্যুর সীমান্তে ছিলেন। দেশে-মাটি ও প্রবাসে ছড়িয়ে পড়া জনগণের স্বাভাবিক ক্যারিশমা তাকে স্মরণ করবে না—বরং আরও জোরালোভাবে উঠবে দেশের জন্য অবিচল প্রতিজ্ঞা।
ঘটনার সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই লাখো মানুষের ভিড় জড়ো হয় দেশের সর্বোচ্চ শহীদ মিনার-সংলগ্ন জাতীয় সংসদ এলাকায়। মরদেহ দেশে ফিরে এলে গত শুক্রবার মরদেহে জাতীয় মর্যাদা, এবং আজ সকালে ময়নাতদন্ত শেষে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় রাজনীতি ও সাধারণ জনগণ—যার উপস্থিতি ঐতিহাসিকভাবে স্মরণীয়। বিশ্বব্যাপী মাধ্যমগুলো এ খবরকে গুরুত্বসহকারে প্রচার করে, বাংলাদেশে মানুষের একতার এবং বীরত্বের নবীন প্রতীক হিসেবে হাদি-ভাবনার নতুন স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওসমান হাদি সম্পর্কে লিখেছে, ২০২৪ সালের ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনের অন্যতম নেতা আজীবন জীবনের সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—জাতীয় শোক পালন ও স্মৃতিকে কেন্দ্র করে দেশের নেতৃবৃন্দ-মহল একত্রিত হয়েছে; মনোনয়নের সাথেই দাফনের কথা।
রয়টার্স তাদের নিবন্ধে বলেছেন, “অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ লাখো মানুষ আজ প্রয়াত যুবনেতা ওসমান হাদি জানাজায় অংশ নিয়েছে” এবং দফায়-দফায় স্মরণে কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে দাফনের কথা যুক্ত করেছে, যা তাঁর বীরত্বকে দেশের ইতিহাসে চিহ্নিত করবে বলে মনে করেন তারা।
টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভি—যারা হাদি জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতাকে সরাসরি কভার করেছে—তাদের শিরোনামই সাক্ষ্য দেয়: “তুমি কখনো হারিয়ে যাবে না”—অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে হাদি জানাজায় লাখো মানুষের সমর্থন। অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম—টিআরটি ওয়ার্ল্ড (তুর্কি), জিও নিউজ (পাকিস্তান) ইত্যাদি—সবাই হাদির প্রতি বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ও সম্মানকে প্রট্যক্ষভাবে তুলে ধরেছে।
এই নরম-চোখের শোক-সংবেদনের ভেতর একটি স্পষ্ট বার্তা উঠে এসেছে: দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা কোনো ব্যক্তির স্মৃতি কখনো মুছে যায়না; বরং তা জনগণের একাত্মতায় নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে জাগিয়ে তুলবে। আজকের দিনে শহীদ ওসমান হাদি আমাদের শেখায়—বিচ্ছেদহীনতাই শক্তি, এবং দেশের জন্য বীরত্বকে স্মরণ করা মানেই তার মত আরও শহীদ-প্রেরণা খুঁজে নেওয়া।