হুমায়ন কবির মিরাজ, বেনাপোল: যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ায় ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পরিচয়ে অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে এক অসহায় ভ্যানচালকের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে এই অমানবিক ঘটনার পর মানবিক সহানুভূতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় নতুন করে আশার আলো দেখেছেন ভুক্তভোগী খোকন মোল্লা।
খোকন মোল্লা বাগআঁচড়া ইউনিয়নের সোনাতনকাটি গ্রামের বাসিন্দা। মৃত হালিম মোল্লার এই ছেলে দীর্ঘদিন ধরে ভ্যান চালিয়ে পরিবার চালাতেন। প্রতারণার শিকার হয়ে ভ্যান হারানোর পর পরিবার নিয়ে তিনি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন।
ঘটনার পর শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কবির হোসেনের উদ্যোগে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শুভানুধ্যায়ীরা এগিয়ে আসেন। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় খোকন মোল্লার জন্য একটি নতুন ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান কেনা হয়।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে বাগআঁচড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে খোকন মোল্লার হাতে নতুন অটোভ্যানের চাবি তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, শার্শা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জামাল হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাবু, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক মিকাইল হোসেন মনা ও বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্থানীয়রা জানান, গত সোমবার দুপুরে একটি মোটরসাইকেল আরোহী বসতপুর যাওয়ার কথা বলে খোকন মোল্লার ভ্যানে ওঠেন। পরে তাকে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে নেওয়া হয়। সেখানে ওই ব্যক্তি জানান, সচিব আসছেন। কিছুক্ষণ পর আরেক ব্যক্তি এসে নিজেকে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পরিচয় দেন।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতারক একজনকে এক হাজার টাকা দিয়ে মিষ্টি কিনতে পাঠান। এরপর খোকন মোল্লাকে বাগআঁচড়া দারুল আমান ট্রাস্ট ও একটি স্কুলসংলগ্ন বাড়ির নিচে নিয়ে গিয়ে মিষ্টি ভেতরে রেখে আসতে বলেন। বাড়িতে কেউ নেই এই অজুহাতে ভেতরে ঢুকতেই বাইরে থেকে ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায় প্রতারক চক্র। বাইরে এসে নিজের ভ্যানটি আর না পেয়ে অসহায় হয়ে পড়েন খোকন মোল্লা। চারদিকে খোঁজ করেও কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি।
পরবর্তীতে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসেন কবির হোসেনসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের সম্মিলিত উদ্যোগেই নতুন অটোভ্যান পেয়ে আবার কাজে ফিরতে পারছেন খোকন মোল্লা।
নতুন ভ্যান পেয়ে আবেগাপ্লুত খোকন মোল্লা বলেন, সব শেষ হয়ে গেছে মনে হয়েছিল। সংসার কীভাবে চলবে বুঝতে পারছিলাম না। আপনাদের সহযোগিতায় আবার নতুন করে বাঁচার সাহস পেলাম।
এই মানবিক উদ্যোগ এলাকায় প্রশংসিত হলেও সচেতন মহল প্রশ্ন তুলছেন একই এলাকায় বারবার সচিব পরিচয়ে ভ্যান চুরির ঘটনা ঘটলেও কেন এখনো প্রতারক চক্র ধরাছোঁয়ার বাইরে। সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু সহানুভূতিই নয়, ভবিষ্যতে এমন প্রতারণা ঠেকাতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা জরুরি।